চাঁদপুরে ৩য় ত্রৈমাসিক জুডিশিয়াল কনফারেন্স-২০১৯

নিত্যনতুন অপরাধ সংঘটিত হলেও বিচার ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি আসছে না
———-জেলা ও দায়রা জজ জুলফিকার আলী খাঁন

চাঁদপুরে ৩য় ত্রৈমাসিক জুডিশিয়াল কনফারেন্স-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৩০ নভেম্বর শনিবার সকালে জেলা জজশীপের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখন নিত্যনতুন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু তা মোকাবেলা করার জন্যে বিচার ব্যবস্থায় নতুন কোনো প্রযুক্তি আসছে না। মামলার ক্ষেত্রে এমসি (চিকিৎসা সনদ) ও পিএম রিপোর্টে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারবে না। চিকিৎসা সনদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টির তদারকি করতে হবে। জামিন শুনানীসহ যে কোনো শুনানীর ক্ষেত্রে এজলাসে আসামীর উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে গুণগত মান রাখতে হবে। পুলিশ বিভাগের সঠিক তদন্তসহ আইনজীবীদের মেধার মাধ্যমে যদি সকল ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে বিচার কার্যক্রম আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়া যাবে। এ জেলার বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা দেয়ার জন্যে সকল বিচারক নিরলসভাবে কাজ করছেন। থানায় মামলা দাখিল করার সময় কোনো বিচারপ্রার্থী যদি এমসি সময় মতো না দিতে পারে তাহলে এ ক্ষেত্রে মামলার আইওকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এমসি সংগ্রহ করে তা মামলার সাথে জমা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাছ থেকে সমন ও এনবিডবিস্নউ ঠিকমতো আসে না। এর কারণে আদালত অনেক কিছু জানতে পারে না। অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে হলে এ বিষয়ে সকলের খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশ, পিবিআই ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক সময় ব্যবহার করতে হবে। দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার নকলের ক্ষেত্রে নকলখানায় নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সরওয়ার আলম বলেন, মালখানার আলামতগুলো কোর্টে আনার পর পুনরায় নেয়ার সময় মামলার নাম্বার লিখে রাখলে খুঁজতে সহজ হবে। আদালত মালখানা থেকে আলামত চাইলে দেখা যায় সেই আলামত আসতে আসতে অনেক সময় লাগে। আদালতে সাক্ষীর ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি। আগামীতে জেলা ও দায়রা জজ এবং সিজিএম আদালতকে অনেক বেশি যেনো সহযোগিতা করতে পারি এজন্যে সকলেরই সহযোগিতা থাকতে হবে।

চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম বলেন, বিচারকদের নিরাপত্তার জন্যে পুলিশের প্রয়োজন। চাঁদপুর আদালতে নিরাপত্তার জন্যে কতজন পুলিশ সদস্য রয়েছে তা সঠিক জানা নেই। বর্তমানে এ জেলায় আমাদের আদালতগুলোতে বিচারপ্রার্থীদের জন্যে দায়িত্বরত বিচারকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যে প্রতিদিনই সাক্ষী গ্রহণ করা হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীদের সেবা দেয়ার জন্যেই মাগরিব নামাজের পরেও আদালতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আদালত থেকে যদি বড় ধরনের কোনো সাক্ষী আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় সেটিতে আমরা সহযোগিতা করবো। বিচারক ও বিচারপ্রার্থীদের সেবার জন্যে চাঁদপুর আদালতে ৮০-এর বেশি পুলিশ সদস্য রয়েছে। আমাদের পুলিশ বিভাগের যারা বিভিন্ন মামলার সাক্ষী রয়েছে, তাদেরকে আমরা সঠিক সময়েই আদালতে এসে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলে থাকি।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-(১) শাহেদুল করিমের পরিচালনায় কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-(২) অরুণ পাল, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ কায়সার মোশারফ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারহানা ইসলাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম, কামাল হোসাইন, হাসান জামান, কফিলউদ্দিন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শুভা চক্রবর্তী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্তিক ঘোষ, সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) শামসাদ জাহান খান, সহকারী জজ আলী নূর ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মিথিলা রাণী দাস, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডঃ শেখ জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ শাহাদাত হোসেন, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডঃ আমানউল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডঃ হাবিবুল ইসলাম তালুকদার, জেলার আবু মুছা, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডাঃ সাজেদা বেগম, পিআইবির পুলিশ পরিদর্শক কবির আহমেদ, কোট ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন মিয়া প্রমুখ।

Related posts