জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন?

চাঁদপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের না কি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমিটির-একথাটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসন স্বীকার না করলেও সেটি যে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে সেটি পরিষ্কার হতে যাচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদকাল শেষ হয়েছে ২০১৭ সালে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। ওই সময় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিলো জেলা পর্যায়ের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুঝে নেয়ার। সে নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদগুলোর দায়িত্ব নির্দিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বুঝে নেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসন পুরোপুরি বুঝে না নিলেও এখন তা পুরোপুরি বুঝে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল ১ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন সহকারী কমিশনারসহ শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেঙ্ ভবনে গিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক নির্বাচিত কমিটির মেয়াদকালের সকল হিসাব-নিকাশ এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আওতায় বিদ্যমান সকল সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিষয়গুলোও বুঝে নেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডারের পক্ষে সংসদের দপ্তরের দায়িত্ব পালনকারী মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব মাস্টার এ হিসাব জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেন।
এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় ইয়াকুব মাস্টারের সাথে। তিনি বলেন, এডিসি জেনারেল এসএম জাকারিয়া স্যার সংসদ কার্যালয়ে এসে আমাদের মেয়াদকালীন হিসাব-নিকাশ বুঝে নিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সম্পদ ও আয়ের উৎসগুলো জেনে নেন। এক কথায় নিয়ম অনুযায়ী সংসদের পক্ষে আমি সকল কিছু জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সংসদ কার্যালয়ে গিয়েছি এটি সত্য। সংসদ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জানতে পারবেন। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। তাই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেঙ্ ভবনটি চিনে গেলাম এবং তাদের কী কী সম্পদ আছে তা জানলাম।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি কি না এমন উত্তর দেয়া কঠিন। এ বিষয়ে হ্যাঁ বা না কিছু বলবো না। কিন্তু এটি বলা যায় দায়িত্বের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অপেক্ষা করুন, সবকিছু জানতে পারবেন।

Related posts