উদ্বোধন হলো গৌরবের ২৮তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা-২০১৯

এখন আর রক্ত দেয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করা —-শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি

‘ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আজ আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশ আজ দীপ্ত পায়ে এগিয়ে চলছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আর এই এগিয়ে চলাকে ধরে রাখতে হলে এখন শুধু প্রয়োজন দেশপ্রেম নিয়ে সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা। এখন আর রক্ত দেয়ার প্রয়োজন নেই।’ কথাগুলো বলেছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। তিনি চাঁদপুরে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি গতকাল ৬ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহরে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গৌরবের ২৮তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বিজয়মেলার উপদেষ্টা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালের সভাপ্রধানে ও মেলা উদ্যাপন কমিটির মহাসচিব হারুন আল রশীদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন ‘৬০-এর দশকের ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুনির আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বার এবং পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধকের বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ বলেন, আমি দীর্ঘ ৪৮ বছরে কোনোদিন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম উত্তোলনের জন্যে যাইনি। আমি এ বিজয়মেলায়ও কখনো আসিনি। আমাকে পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল উপর্যুপরি অনুরোধ করেছেন। এরপর আমার সন্তানরা আমাকে বলে বাবা কেনো যাবে না? তুমি না গেলে তুমি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমরা যে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানের ছেলে সে পরিচয় কীভাবে দেবো। তাই তাদের সে কথাগুলো ভেবে আমি এখানে এসেছি। আজ এখানে এসে বুঝলাম আরো আগে আমার এখানে আসা দরকার ছিলো। আমার ভুল হয়েছে। আজ এখানে এসে দীর্ঘ ৪৮ বছর পর রণাঙ্গনের আমার কিছু সহযোদ্ধাকে দেখতে পাচ্ছি। এখানে না আসলে তাদের দেখতে পেতাম না।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা ও বিজয়মেলার পতাকা অঙ্গীকারের সামনে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর মহান স্বাধীনতা-সংগ্রামের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত অঙ্গীকার পাদদেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। তারপর মেলার মূল ফটকে ফুলের মালা কাটা হয়। এরপর অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পূর্বে স্বাধীনতা-সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা দেয়া সংগীত ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ সংগীত শতকণ্ঠে পরিবেশন করা হয়। পরে অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি ও মেলার উদ্বোধক মুনির আহমেদকে মেলার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে সকল অতিথিকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

Related posts