হাজীগঞ্জে ১০টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

হাজীগঞ্জের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শেষ হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন থেকে শুরু করে গত ৬ ডিসেম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ১০টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সমাপ্ত করা হয়েছে। ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নে সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হয়েছে। হাটিলা পূর্ব ও গর্ন্ধব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে মামলাজনিত কারণে কমিটি গঠন বন্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠনের পূর্বে সকল ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ ওয়ার্ডে ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শেষ করার তাগিদ রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

জানা যায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকায় আর নিজেদের মধ্যে আপোষ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি বলে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করতে হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টদের। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভালোর চেয়ে মন্দ কথা ছড়িয়েছে অনেক বেশি। আবার ২/১টি স্থানে ভাংচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজারগাঁও ইউনিয়নে সম্মেলন শেষে বিজিত সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের লোকজন মঞ্চের চেয়ার ভাংচুর করেছে। ২ নং বাকিলা ইউনিয়নে উভয় পদে তুমুল প্রতিযোগিতা হয়েছে, যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে উপজেলার সর্বত্র। কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নে বিজিত প্রার্থীর লোকজন গাছের গুঁড়ি ফেলে স্থানীয় সাহেব বাজারে সড়ক অবরোধ করেছে। ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে বিধি অনুযায়ী সম্মেলন হয়নি বলে আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আহসান হাবীব। এই প্রার্থীর নিষেধাজ্ঞার আদেশ কমিটি গঠন দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে আসার পূর্বেই কমিটি গঠন হয়ে যায়। যা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নে নিজেদের মধ্যে আপোষ হয়ে যাওয়ার কারণে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে সম্মেলন স্থগিত চেয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নামে মামলা জনিত কারণে এই দুটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্মেলন বন্ধ রাখা হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়নে সাবেক সভাপতিগণ এবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোটাধিকারের মাধ্যমে উপজেলার ১নং রাজাগাঁওয়ে সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাদি, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আবু হাজী, ২নং ইউনিয়নে সভাপতি মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি ধর, ৩নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নে সভাপতি মানিক হোসেন প্রধানিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পলাশ, ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে আকতার হোসেন মিকন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সভাপতি সফিকুর রহমান মীর, সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন সবুজ, ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন মিয়াজী, ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নে সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজী, সাধারণ সম্পাদক এমএ হাসেম হাসু, ৯নং গর্ন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে সভাপতি আলহাজ্ব কাজী নুরুর রহমান বেলাল, সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ অলিউল্ল্যাহ, ১১নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে সভাপতি একেএম মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হক রাসেল পাটোয়ারী নির্বাচিত হন। দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়নে সভাপতি একেএম শাহজাহান প্রধানীয়া ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বকাউল সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমিটিগুলো গঠন নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে যেমনি প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরেছে তেমনি আবার আন্তঃকোন্দল বেড়েছে। যারা নির্বাচনে হেরেছে তাদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার যারা নির্বাচনে বিজিত হয়েছে তাদেরকে নতুন কমিটি থেকে বাদ দেয়ার জন্য নেতারা চিন্তা ভাবনা করছেন বলে অনেকের মধ্যে বলাবলি করতে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন জানান, হাটিলা পূর্ব ও গন্ধর্বপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন সম্মেলন মামলাজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ যেভাবে চাইবে সেভাবে আমরা কাজ করবো। অপর এক প্রশ্নে গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন বলেন, জেলা নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য যেদিন দিন-ক্ষণ দিবে সেদিন আমরা প্রস্তুত আছি।

Related posts