কচুয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রবিউলের আবেদন

জন্মগতভাবেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৭ বছরের শিশু রবিউল আউয়াল স্রষ্টার সৃষ্টি জগতের রূপ-সৌন্দর্য ছাড়াও এ পৃথিবীতে তার অতি আপনজন মা-বাবার মুখখানি দেখা থেকেও বঞ্চিত। একের পর এক চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেও দৃষ্টিশক্তি খুঁজে পাচ্ছে না রবিউল।

রবিউলের জন্ম কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। পিতা বিল্লাল হোসেন রিঙ্াচালক। মা সুমি আক্তার গৃহিণী। বাবা-মা দুজনই রবিউলকে নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। দিনের বেলায় রবিউল আগুন-পানি কিংবা কোন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় কিনা এজন্যে সারাক্ষণই তার পাশে পাশে পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে থাকতে হচ্ছে।

রবিউলের পিতা বিল্লাল হোসেন জানান, জন্মের পর রবিউল পৃথিবীর আলো দেখেনি। রবিউলকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টের বোঝা বয়ে চলছি। চিকিৎসার মাধ্যমে রবিউল খুঁজে পাবে তার দৃষ্টিশক্তি এমনি স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার পিজি হাসপাতাল ও ইসলামিয়া ইস্পাহানি আই ইনস্টিটিউটসহ দেশের নামি-দামি হাসপাতালে গিয়ে স্বনামধন্য চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছি। সহায়-সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করে তাকে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু বিধিবাম! কোনো চিকিৎসকই রবিউলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারেনি। ছেলেকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

বর্তমানে শিশুটি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার নুসরাত শাহারিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন, দেশে তার চিকিৎসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাকে দেশের বাইরে উন্নত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালে দৃষ্টি শক্তি পেতে পারে। কিন্তু রবিউলকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর চিন্তা করতে পারছে না হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা বিল্লাল হোসেন। এ অবস্থায় অন্তত একটি চক্ষু দান করে বাবা-মায়ের মুখ দেখাসহ পৃথিবীর আলো দেখার সাধ মেটাতে রবিউল হৃদয়বান ব্যক্তিদের নিকট আবেদন জানাচ্ছে। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের মোবাইল নম্বর হচ্ছে-০১৮৮১-৯৭৯০২৫।

Related posts