সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু!

চরফতেজংপুর নেছারিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার মোশারফ হাওলাদারের সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু!
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নস্থ চরফতেজংপুর নেছারিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার মোশারফ হাওলাদারের (৭০) সিজদাহ্রত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে আখনেরহাট এলাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ি নিবাসী। এছাড়া তিনি ছারছীনা শরীফের পীর আল্লামা নেছারুদ্দিন আহমদ (রহঃ)-এর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন জমইয়াতে হিযবুল্লাহর ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন শাখার সদস্য ছিলেন।

গতকাল শনিবার বাদ জোহর মরহুম মোশারফ হাওলাদারের জানাজায় আমিরে হিযবুল্লাহ ছারছীনার পীর ছাহেব আলহাজ্ব মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মাঃজিঃআঃ) অংশ নেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেন। চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের ওয়্যারলেছ মুন্সি বাড়ি রেলগেইট সংলগ্ন খানেকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেঙ্ মাঠে ছারছীনা মাদ্রাসার আরবি বিভাগের অধ্যাপক মাওঃ রুহুল আমিন আফসারী জানাজার ইমামতি করেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার চান্দ্রাবাজার ইয়াকুব আলী স্মারক হাইস্কুল মাঠে ছারছীনা পীর ছাহেবের মাহফিল ছিল। সে সুবাদে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নেতৃবৃন্দ মাহফিলে এসেছেন। সে কাফেলার সাথে মোশারফ হাওলাদারও ছিলেন। আখেরী মোনাজাত শেষে সবাই ট্রলারে উঠলেও তিনি উঠতে পারেননি। লোকজনের সমাগমে তার কথা ভুলে গেছেন বলে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠেন মাওঃ আহমদুল্লাহ। চরফতেজংপুর গ্রামের মুরাদ বলেন, তিনি নেছারিয়া জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার ছিলেন। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং ইশরাক-আউয়াবিন নামাজও পড়তেন। জয়নাল মিয়া বলেন, মাহফিলে এসে তিনি পীর ছাহেব হুজুরের সাথে দেখা করেছেন।

আখনের হাটের সুমন ও তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখি একজন সিজদারত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন আমাদের ডাক-চিৎকারে পার্শ্ববর্তীরা এগিয়ে আসেন। পরে আমাদের ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বারের পরামর্শে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই আওলাদ হোসেন বলেন, সদর হাসপাতাল থেকে আমরা ম্যাসেজ পাই একজন অঙ্গাত ব্যক্তির লাশ আঞ্জুমানের মাধ্যমে দাফন করার জন্যে। আমি লাশটির সুরতহাল করে দেখি তার হাতে তাসবিহ। মাথায় টুপি ও পাগড়ি পেঁচানো। তিনি ছারছীনার পীর ছাহেব হুজুরের মুরিদ। একজন আল্লাহ ওয়ালা মানুষ ছিলেন। আমি ইব্রাহিমপুর ও চান্দ্রা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করি। পরে পরিবারের আবেদনের পেক্ষিতে পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।

এদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নূরুল ইসলাম বলেন, লোকটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে মৃত অবস্থায়। তাঁর শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, মরহুম মোশারফ হাওলাদার স্ত্রী ও ৮ ছেলে রেখে যান। পরে তাঁকে নিজস্ব কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

Related posts