ফরিদগঞ্জে দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর এ দু’ উপজেলার সংযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি সড়কের অংশ নিজের সম্পত্তি দাবি করে এ ঘটনা ঘটায়। অপরদিকে সড়কের অংশ কেটে ও বেড়া দেয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, অর্ধশত বছর ধরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওড় বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া ফরিদগঞ্জ-হাইমচর সড়কটি দিয়ে ফরিদগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাইমচর এলাকার মানুষ চলাচল করছে। প্রথমে এটি পায়ে হেঁটে চলার পথ হলেও কালের বিবর্তনে সড়কটি দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করছে। ইতিমধ্যেই সড়কটি ফরিদগঞ্জ অংশে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মাটি কেটে চওড়া করার পাশাপাশি সড়কটির ফরিদগঞ্জ অংশের ৭০ ভাগ পাকাকরণ হয়েছে।

এছাড়া হাইমচর উপজেলা কর্তৃপক্ষ দুই উপজেলার সীমানাস্থল খালের উপর চলাচলের জন্যে সেতু নির্মাণ করে দেয়। ফলে এই এলাকার মানুষের চলাচল অনেকটা সহজ হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের জনৈক সেলিম গাজী সড়কটির পশ্চিম অংশ গোবিন্দপুর অংশের উপজেলা সীমানার অদূরে নিজের জমি দাবি করে বেশ কিছু অংশ কেটে ও বেড়া দিয়ে ফেলে। ফলে সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন ও যানবাহনকে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরজমিনে গেলে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী সেলিম গাজী ফরিদগঞ্জ-হাইমচর সড়কের পাশে নিজের সম্পত্তির সাথে সড়কের কিছু অংশ বেড়া দিয়ে ফেলেছে। আবার সড়কের কিছু অংশ কেটে ফেলেছে। স্থানীয় বিল্লাল গাজী, মাসুদ গাজী, নান্নু গাজী, সোহেলসহ লোকজন জানান, তারা দীর্ঘ দুই দশক ধরে সড়কটি ক্রমান্বয়ে সরকারি অনুদানে উন্নতি দেখেছেন। ইতিমধ্যেই সড়কটির ফরিদগঞ্জ অংশের ৭০ ভাগ পাকা হয়েছে। বাকি ৩০ ভাগ অচিরেই হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের মধ্যকার সীমানা খালের উপর ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাইমচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সুগম হয়। কিন্তু এরই মধ্যে সপ্তাহ পূর্বে জনৈক সেলিম গাজী সড়কের তিন চার ফুট অংশ নিজের অংশ দাবি করে কেটে ফেলে এবং বাকি অংশে বেড়া দিয়ে দেয়। এদিকে দুই উপজেলার সংযোগ সড়কটি এভাবে নিজের সম্পত্তি দাবি করে কেটে ফেলা ও বেড়া দিয়ে ফেলা কতটুকু আইনসিদ্ধ তা নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আঃ হান্নান জানান, ফরিদগঞ্জ-হাইমচর সড়কের অংশ নিজের দাবি করে কেটে ও বেড়া দেয়ার ঘটনাটি তাকে কেউ জানায় নি। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত সেলিম গাজী সড়কের অংশ কেটে নেয়া ও বেড়া দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ তার সম্পত্তি উপর দিয়ে গিয়েছে। পাশেই যেহেতু আরো সম্পত্তি রয়েছে, তাই তারাও সমান অংশ দিবে বলে তিনি আশা করেন। এজন্যই তিনি সড়কের অংশ কেটে দিয়েছেন।

Related posts