বিপিএল মাতাচ্ছেন কচুয়ার রানা

বঙ্গবন্ধু বিপিএল-এ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের জার্সি গায়ে বল হাতে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাঁহাতি পেসার কচুয়ার মেহেদী হাসান রানা। তার বোলিং তোপের মুখে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান দাঁড়াতেই পারছে না। বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করছেন মেহেদী হাসান রানাকে নিয়ে। ২২ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার বিপিএলের সকল দলের ক্রীড়ামোদী ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছেন তার বোলিংয়ের মাধ্যমে। চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হকের ছেলে এই রানা।

অনলাইন পূর্ব-পশ্চিমের একটি লেখায় লেখা হয়েছে, এবারের বিপিএল মাতাচ্ছেন চাঁদপুরের চাঁদ। চাঁদ হচ্ছেন চাঁদপুরের কচুয়ার মেহেদি হাসান রানা। অনলাইন পত্রিকার ক্রীড়া প্রতিবেদক লিখেছেন, চাঁদপুরে আঞ্চলিক একটা শব্দ বেশ প্রচলিত। যারা দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে দারুণ কিছু করেন তাদের প্রশংসা স্থলেই চাঁদ বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। রানার ক্ষেত্রেও এমন ভাবাটা অস্বাভাবিক নয়। কেননা এখন পর্যন্ত তিনি তো চলমান বিপিএলের সেরা বোলার। ক্রিকেটারদের ভিড়ে এভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন হয়তো মেহেদী হাসান রানা নিজেও কখনো ভাবেননি। তবে স্বপ্ন ছিলো যদি ভালো দল পায় তাহলে ভালো কিছু করবেন। শেষমেষ তাকে দলে ভিড়ায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি মেহেদী হাসান রানাকে। বল হাতে ছুটছেন দারুণভাবে। এরই মধ্যে চলমান বিপিএলে সেরা বোলারের আসন অলঙ্কৃত করেছেন। তিনি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন দুবার। চট্টগ্রাম দলটিও রানার উপর আস্থা রেখেছিল। তাদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন এই পেস বোলার, প্রতি ম্যাচেই বল হাতে তিনি চমক দেখাচ্ছেন।

এক সময় তার সাথে খেলা তারই সতীর্থ চাঁদপুর জেলার ক্রিকেটার ফজলে রাবি্বর সাথে রোববার রাতে আলাপ করে জানা যায়, এ পর্যন্ত মেহেদি হাসান রানা বিপিএল-এ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ফজলে রাবি্ব জানান, মেহেদি হাসান রানা এ পর্যন্ত রংপুর রেঞ্জার্স, সিলেট থান্ডার, ঢাকা প্লাটুন, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রেঞ্জার্সের সাথে পাঁচটি ম্যাচে বল হাতে অংশ নেয়। পাঁচ ম্যাচে মেহেদী হাসান রানা ১৯ ওভার বল করে পেয়েছেন দুইটি মেডেন ও ১২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। যা চলমান বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় রয়েছে।

মেহেদী হাসান রানার এমন পারফরম্যান্সে খুশি চাঁদপুরের মানুষ। তারা বিপিএলে চলা অন্য ম্যাচগুলোর খেলা না দেখলেও চট্টগ্রামের খেলা দেখেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের পাশাপাশি ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে আপন আলোয় চাঁদপুরের মাঠে খেলা এবং ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি চাঁদপুরে হাতে খড়ি হওয়া মেহেদী হাসান রানা। ইতিমধ্যে তাকে আগামীর মাশরাফি ও মোস্তাফিজুর রহমান ভাবতে শুরু করছে ক্রিকেটবোদ্ধারা।

২০১০-১১ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া পেস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তুলে আনা হয় মেহেদী হাসান রানাকে। সম্ভাবনাময় একজন পেসার হিসেবে সে সময় কোচদের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।

চলমান বিএপিএল-এ বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলামরা প্রদীপের নিচে। তারা এখন পর্যন্ত নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাদের ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী বোলার মেহেদী হাসান রানা।

মোস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পিছনে ফেলে দিবে বাংলাদেশের আগামী দিনের সম্ভাবনাময় সুপার স্টার মেহেদী হাসান রানা-এটাই চাঁদপুরবাসীর স্বপ্ন। রানা একসময় ফুটবল ভালো খেলতেন। তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবলে কচুয়া উপজেলার হয়ে ফুটবল খেলেছেন। তার আগামী দিন আরো সুন্দর ও সম্ভাবনাময়ভাবে কাটুক এই প্রত্যাশা চাঁদপুরবাসীর।

Related posts