ফরিদগঞ্জের সিআইপি খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

পূর্ব ঘোষিত তারিখ ২৩ ডিসেম্বর সোমবার থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলো প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস এবং পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযানে অংশগ্রহণ করে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্বে নোটিশ পেয়ে স্থাপনা নির্মাণকারীরা অনেকেই সেচ প্রকল্প বাঁধের পাশের খালের উপর নির্মিত কিছু স্থাপনা সরিয়ে নিলেও পাকা স্থাপনাগুলো আগের অবস্থায়ই ছিল। কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে অভিযানে নেমে বুলডোজার দিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন যথাক্রমে বালিথুবা পূর্ব, বালিথুবা পশ্চিম, সুবিদপুর পশ্চিম এবং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ১২ কিলোমিটারব্যাপী খালের উপর ২২৭ জন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে সকল নদী খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বারোপিট খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং ভূমি অফিস যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেগুলো পরিদর্শন শেষে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের নোটিশ প্রদান করা হয়। ২২৭ জনের মধ্যে ২২০ জনকে নোটিশ প্রদান করা হয় বলে স্থানীয় ভূমি অফিস জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুরো উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালগুলোতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে পানির গতিপ্রবাহ বিঘি্নত হওয়ায় বোরো মৌসুমে পানি প্রবাহে ব্যঘাত ঘটে। যার ফলে প্রতিবছর কৃষকদের ভুগতে হয়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার জানান, সোমবার সকাল থেকেই চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ রফিক উল্যাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানাসহ দুই প্লাটুন পুলিশ।

এর আগে সকালে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন লেকটির পাশে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, চাঁদপুর সার্কিট হাউস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন লেকটি দীর্ঘদিন যাবৎ নোংরা ও কিছু অংশ অবৈধ দখলদার কর্তৃক বেদখল হয়েছিল। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান স্যারের নির্দেশে লেকটির সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে লেকের পাড়ের ১৫ টি অবৈধ স্থাপনা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Related posts