বাবার পরে দুই মেয়ের জানাজা পাশাপাশি তিনজনকে দাফন

বাবা সাইফুজ্জামানের জানাজা শেষ হলো। কয়েক মিনিট পরেই একই স্থানে একই মাঠে আর একই মুসলি্লর অংশগ্রহণে দুই মেয়ের জানাজা একত্রে অনুষ্ঠিত হলো। এরপরেই ৩টি খাটিয়ায় করে বাবা ও দুই মেয়ের লাশ আলাদাভাবে গ্রামবাসী আর আত্মীয়রা নিয়ে গেলো কবরস্থানে। পূর্ব থেকে প্রস্তুত করে রাখা পরপর তিনটি কবরে পাশাপাশি শায়িত করা হলো বাবা আর দুই মেয়েকে। এমন মর্মন্তুদ ঘটনায় এলাকাবাসী এখন শোকে ভাসছে।

এমন হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জের কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর খান বাড়িতে। গতকাল রোববার দুপুরে বাবা আর দুই মেয়েকে একত্রে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার সকালে চট্টগ্রামে ফৌজদারহাট বন্দর বাইপাস এলাকায় প্রাইভেটকার ও লরির সংঘর্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোঃ সাইফুজ্জামান মিন্টু (৫০) এবং তার দুই মেয়ে আশরা আনাম খান (১৩) ও তাসমিন জামান খান (১১) নিহত হন।

রোববার দুপুরে হাজীগঞ্জের কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথমে বাবা সাইফুজ্জামানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাবার লাশের খাটিয়াকে এক পাশে রেখে দুই মেয়ের জানাজা পড়ানো হয়। জানাজার জন্যে কফিনের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মুসলি্লর পরিবর্তন হয় নি। জানাজা শেষে তিনজনের লাশ একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় হাজার হাজার এলাকাবাসী অংশ নেয়। এদিকে বাবা ও ২ মেয়েকে একত্রে দাফন করা হলেও সাইফুজ্জামানের স্ত্রী কনিকা আক্তার (৪০) ও ছেলে মন্টু (১০) জীবন মুত্যুর সন্ধিক্ষণে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত সাইফুজ্জামানের বড় ভাই নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোস্তফা কামাল খান বলেন, নিহত আশরা আনাম খান ফেনী ক্যাডেট কলেজের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আর তাসমিন জামান খান মিরপুর পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত মন্টু মিরপুরের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

এদিকে নিহত সাইফুদ্দিনের অপর বড় ভাই আবুল হাসেম খান কান্নাজড়িত জানান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কনিকাকে স্বামী সন্তানের মৃত্যুর খবর এখনো জানানো হয়নি। তার জ্ঞান ফিরলেও ভাতিজা মন্টুর জ্ঞান এখনো ফেরেনি। তাদেরকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে বলে পারিবারিকভাবে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নিহতের জানাজায় অংশ নেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া, ফেনী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক নূরে আলম, মিন্টুর সহপাঠী ও সহকর্মীবৃন্দ। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় জানাজা নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ আবদুল মান্নান ও মাওলানা আবদুল খালেক।

Related posts