হাজীগঞ্জে স্কুলের পাশে ছাত্রের গলাকাটা লাশ ॥ আটক ২

হাজীগঞ্জে নিজ স্কুলের পাশেই মারুফ হোসেন রিয়াদ (১৬) নামের স্কুল ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। রিয়াদ হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গাইন বাড়ির ফরিদ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে প্রাথমিকভাবে ২ জনকে আটক করেছে। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, ডিবি ও পিআইবি ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আলামত উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশের ভবন আমিন মোমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে যে দোকান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই দোকান কর্মচারী ফারুক হোসেন (২৮) পলাতক রয়েছে। ফারুক পাশর্^বর্তী কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। রিয়াদ স্থানীয় আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো।
স্থানীয় কাউন্সিলর জাহেদুল আজহার আলম বেপারী বলেন, সকালে দোকানের মালিক ফরিদ দোকানের কর্মচারী ফারুককে ঘুম থেকে জাগাতে এসে দেখেন দোকানটি বন্ধ। পরে সার্টার ভেঙ্গে দেখেন ভেতরে রিয়াদের লাশ। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, যে দোকানে রিয়াদের লাশ পাওয়া যায় সেই দোকান মালিক স্থানীয় ফরিদ মিয়া। তিনি তার ভায়রা ভাই কচুয়ার ফারুক হোসেন নামের একজনকে কর্মচারী হিসেবে দোকানে রাখেন। ঘটনার পর থেকে এই ফারুক হোসেন পলাতক রয়েছে। নিহতের বাড়ি মকিমাবাদ গাইন বাড়ি হলেও তারা নতুন বাড়ি করেছেন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ৫নং সদর ইউনিয়নের সুদিয়া গ্রামে।
দোকান মালিকের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, ফারুকের সাথে নিহত রিয়াদের আগে বন্ধুত্ব ছিল। ইতিমধ্যে একটু খারাপ সম্পর্ক শুনেছি। দোকানটি ফারুক পরিচালনা করতো। প্রতিদিন বিকেলেই দোকানটি বন্ধ করা হয়।

নিহত রিয়াদের মা রোজিনা বেগম বলেন, ফারুকের সাথে একটি মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে রিয়াদের হট্টগোলের কথা জানতে পেরেছি। এছাড়া রিয়াদের চাচা শাকিল (১৮) প্রায় ২ মাস আগে হাতে ব্যবহৃত একটি ব্যাসলেট নিয়ে বিরোধ বাঁধলে আমার ছেলেকে ছুরিকাহত করে। সেই সময় রিয়াদকে হাসপাতালে নিয়ে সেলাই দিতে হয়েছে।
রিয়াদের বাবা ফরিদ হোসেন জানান, ছেলে বাড়িতে আছে কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে প্রতি রাতে বাড়িতে গিয়ে বিছানায় দেখি। শনিবার রাতে ১টার দিকে বাড়ি গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে তার মাকে বলি, রিয়াদ কোথায়? তার মা বলে, এখনো বাড়িতে আসেনি। এর পরেই রিয়াদকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাই। মাঝে মধ্যে সে নতুন বাড়িতে ঘুমাতে যেতো বিধায় ভেবেছি হয়তো সে নতুন বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপরেই ভোরে খবর পাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

বাবা ফরিদ হোসেন আরো বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে আমার নতুন বাড়িতে কে বা কারা যেন আগুন লাগিয়ে দেয়। আমার সাথে কারো কোনো শত্রুতা আছে বলে আমার জানা নেই। তাহলে আমার ছেলেকে কারা খুন করলো?
থানা পুলিশের পাশাাপাশি ঘটনার দিন সকালেই সিআইডি, ডিবি ও পিবিআইর বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আলামত সংগ্রহসহ নিহতের পরিবার পরিজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাকিল ও হৃদয় নামের দুজনকে থানায় আনা হয়েছে ও লাশ ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছি।

Related posts