গভীর রাতে দোকানে চোরের মার্কেটিং!

খালি শরীরে শুধু মাত্র জিন্স প্যান্ট পরা মাত্র ১ জন চোর। দোকানের চালের টিন কেটে ঢুকে প্রথমে ক্যাশের পুরো টাকা নিজ পকেটে নিয়ে নেয় ঐ চোর। হাতে একটি স্ক্রু-ড্রাইভার, টর্চ লাইট সংযুক্ত একটি ম্যাচ লাইট আর সাথে একটি মোবাইল ফোন। টাকা নিয়ে নেয়ার পর ধীরে সুস্থে দোকান থেকে প্রথমে নিজের জন্যে একটি জিন্স প্যান্ট পছন্দ করে। এর পরেই নিজের জন্যে গেঞ্জি আর সেলফ থেকে খুঁজে নেয় একটি জাঙ্গিয়া। দোকানের ভেতরেই নিজে পুরাতন জাঙ্গিয়া পাল্টে নতুন জাঙ্গিয়া পরে। এরপর এক এক করে গেঞ্জি, জিন্স প্যান্ট আর শীতের সুয়েটার পরে নেয় সেই চোর। পর্যায়ক্রমে দোকানের প্রতিটি সেলফে টর্চ লাইট মেরে মেরে নিজের পছন্দ মতো জামা-কাপড় একটি বস্তায় ভরে নেয়। এমনকি ছোট বাচ্চার জন্যে একটি জ্যাকেট পর্যন্ত। নিজের পরনের সকল জামা কাপড় নতুন আর পরিবারের জন্যে নতুন এক বস্তা মালামাল নিয়ে অনেকটা নিজের মতো করে মার্কেটিং করে দোকান ত্যাগ করে এই চোর। এ সবই দেখা সম্ভব হয়েছে সিসি ক্যামেরার কল্যাণে। চোরের চেহারা সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গেলে বাস্তবে তাকে কেউ চিনতে পারেনি বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান। ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জের বাকিলা বাজারের বাকিলা-চাপাতলি সড়কের বাকিলা সিএনজি অটোরিকশা স্টেশন সংলগ্ন শৈলী গার্মেন্টসে। ঘটনার পর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আর ঘটনাটি ঘটে গত রোববার দিবাগত রাত সোমবার গভীর রাতে।

সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ আর দোকান মালিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রোববার দিনের বেলা নিজের পারিবারিক কাজে ঢাকা অবস্থান করেন শৈলী গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারী শ্যামল দাস। দিনে কর্মচারীর বিক্রি করা টাকা হতে মোকাম দিয়ে ক্যাশে অবশিষ্ট ছিলো সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য একজনের টাকা দোকানে জমা ছিলো ৩০ হাজার। সব মিলিয়ে মোট টাকা ছিলো ৪২ হাজার। ঐ রাতের কোনো এক সময় (সিসি ক্যামেরার ঘড়ি ভালো না থাকায় সময়টা সঠিক জানা সম্ভব হয়নি) দোকানের চালের টিন কেটে ঢুকে অজ্ঞাত সেই চোর। হালকা পাতলা গড়নের শরীরে বুকে হালকা লোম থাকা এই যুবক দোকানে ঢুকেই তার হাতে থাকা স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে ক্যাশ ভেঙ্গে ক্যাশের সব টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এর পরেই সে এক এক করে তার নিজের পরনে থাকা জাঙ্গিয়া আর জিন্স প্যান্ট পাল্টে নতুন জাঙ্গিয়া, জিন্স প্যান্ট, হাফ গেঞ্জি, ফুল গেঞ্জি আর সুয়েটার পরে নেয়। এ সময় তার কাছে বেশ কয়েকটি ফোন আসে এবং সহজভাবে ফোন রিসিভ করে কথা বলতে দেখা যায়। নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়া আর নিজের নতুন জামাকাপড় পরে নেয়ার পরেই এক এক করে বিভিন্ন সেলফ থেকে জামা-কাপড় ভরে একটি বস্তায় নেয়। সর্বশেষ ১০/১২ বছর বয়সী ছেলের জন্য একটি জ্যাকেট বস্তায় ভরা দেখে ধারণা করা হচ্ছে সে বস্তায় যা কিছু নিয়েছে সবই তার পরিবারের জন্যে নিয়েছে। এই চোরের দোকানে অবস্থানকালীন কয়েক মিনিট মাস্ক পরা থাকলেও প্রায় পুরো সময়টা তার মুখ খোলা ছিলো।

এ বিষয়ে শ্যামল দাস জানান, চোর প্রায় ৪২ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে আর বেশ কিছু কাপড় নিয়েছে। অন্য এক বিষয়ে এই ব্যবসায়ী জানান, মামলা করার বিষয়ে এখনো চিন্তা করিনি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছিলো।

Related posts