পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যার শিকার রিয়াদ!

হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন রিয়াদকে (১৬) জবাই করে হত্যার ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ঘটনার দিন রিয়াদের বাবা ফরিদ হোসেন ৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা আর সিসি টিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ এজাহার নামীয় ৩ জন এবং সন্দেহজনক ৫ জনসহ মোট ৮ জনকে আটক করে। তবে পুলিশ ধারণা করছে, রিয়াদকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রিয়াদের পরিচিত কচুয়ার বাসিন্দা পলাতক থাকা দোকান কর্মচারী ফারুক হোসেনকে আটক করতে পারলে এ হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

পুলিশ জানায়, রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রোববার রিয়াদের বাবা ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ফরিদ হোসেনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করেন।

এদিকে রোববার সকালেই পুলিশ স্থানীয় মকিমবাদ গ্রামের ২ জনকে আটক করে। অপরদিকে রিয়াদের লাশ যে দোকানে পাওয়া গেছে তার পাশের আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মূলত ফুটেজে সনাক্তকারীদের কয়েকজনসহ রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ এজাহার নামীয় ৩ আর সন্দেহজনক ৫ জনসহ মোট ৮ জনকে আটক করতে সমর্থ হয়।

রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে সব মিলিয়ে ৮ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্নভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পূর্ব পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। তবে আমরা এ মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন রিয়াদ দুর্বৃত্তের হাতে হত্যার শিকার হন। পরের দিন ভোরে স্থানীয় আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি দোকান থেকে রিয়াদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রিয়াদ হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গাইন বাড়ির ফরিদ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করেছে। ঘটনার পর পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, ডিবি ও পিআইবি ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আলামত উদ্ধার করেছে। ঘটনার পরেই চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে যে দোকান থেকে রিয়াদের লাশ উদ্ধার করা হয় সেই দোকান কর্মচারী ফারুক হোসেন (২৮) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। ফারুক পার্শ্ববর্তী কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। রিয়াদ স্থানীয় আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

Related posts