হাজীগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে জরিমানা ৪৪ লাখ টাকা

গতকাল সোমবার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪টি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে চারটির চুলা নিভিয়ে ফেলা হয়, তিনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযান চালায়। এছাড়া চারটি ইটভাটা থেকে ৬ লাখ করে মোট ২৪ লাখ টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে একটি ব্রিক ফিল্ডকে আরো ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে পরবর্তী ২০ লাখ টাকার বিষয়ে ব্রিক ফিল্ডের মালিক সময় প্রার্থনা করায় তাকে কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ দেয়া হয়। কাগজপত্র দেখানো সাপেক্ষে তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে অথবা মওকুফ করা হবে। এছাড়া অবৈধ ইটভাটাগুলোর চুলা দমকল বাহিনীর সাহায্যে নিভিয়ে ফেলা হয়। চাঁদপুরে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই প্রথম এমন বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান।

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার আলীগঞ্জের মেসার্স কামাল ব্রিকস বিলওয়াই এলাকার রণি ব্রিকস, এমবিএম ব্রিকস্ এবং গন্ধর্ব্যপুর এলাকার গণি ব্রিক ফিন্ডকে এই জরিমানা করা হয়। এ সময় দমকল বাহিনীর সহায়তায় ফিল্ডগুলোর চুলার আগুন নিভিয়ে দেয়া হয়। অভিযানকালে পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর অফিস, র‌্যাব-১১, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজীদ আহমেদ।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার আলীগঞ্জের কামাল ব্রিকস্কে ৬ লাখ টাকা জরিমানাসহ ফিল্ডের চুলাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়। একই আদালত একই পৌর এলাকার ধেররা বিলওয়াই এলাকার রণি ব্রিকস্ ও এমবিএম ব্রিকসের চুলার আগুন নিভিয়ে ফেলাসহ ৬ লাখ করে ১২ লাখ টাকা এবং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নে গণি ব্রিক্সের চুলা নিভিয়ে ফেলাসহ ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ৬ লাখ টাকা নগদ আদায় করা হয়। আর বাদবাকী ২০ লাখের জন্য ফিল্ডের মালিকের আবেদনের আলোকে সময় দেয়া হয়।

আলীগঞ্জের মেসার্স কামাল ব্রিকস ফিল্ডের পরিচালক শাহজাহান বেপারী বলেন, ২০১২ সালের পর আমরা ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নের জন্যে দরখাস্ত করি। কিন্তু আমাদের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া অভিযানের আগে আমাকে কোনো ধরনের নোটিস দেয়া হয়নি।

চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএইচএম রাসেদ বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে ইটভাটা তৈরি করা নিষিদ্ধ। এছাড়া এলাকায় স্কুুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতে লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জরিমানাকৃত ইটভাটার কোনো কাগজপত্র নেই। অবৈধভাবে ২০১২ সাল থেকে ইটভাটাগুলো চলছে।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, চাঁদপুর জেলার শতাধিক ইটভাটার মধ্যে ৪০টি ইটভাটা কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি না মেনেই দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেসব ইটভাটার বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীদ আহমেদ জানান, আমরা সারাদেশেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে চাঁদপুরে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই ইটভাটাগুলোর কোনো ধরনের বৈধতা নেই।

Related posts