এবার কুকুরকে জলাতঙ্ক নিরোধ ভ্যাকসিন দেয়া হবে

জলাতঙ্ক একটি ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি। এ রোগে মৃত্যুর হার শতভাগ। তাই কুকুর নিধনের পাশাপাশি কুকুরকে ভ্যাকসিন তথা জলাতঙ্ক নিরোধ টিকা দেয়ার কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে হাতে নিয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়। ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলায় এই প্রথম জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি তথা কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচদিন চাঁদপুর সদর উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে গতকাল সোমবার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে উদ্যোগে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনের উপস্থাপনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুকবুল হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, এমডিভি প্রকল্পের সুপারভাইজার তৌকির আহমেদ, ভ্যাটিনারি সার্জন ডাঃ রাশেদ, চাঁদপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা ও রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী।

সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলায় ব্যাপকহারে কুকুরকে ভ্যাকসিন (টিকাদান) কার্যক্রমের আওতায় আনতে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ এবং সদর ইউএইচএফপিও ডাঃ সাজেদা বেগম জলাতঙ্ক রোগের পর্যায়ক্রম ধারা, এর ভয়াবহতা এবং এ থেকে রক্ষায় সরকারের গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরেন। কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া কর্মসূচি যাতে শতভাগ সফলতার সাথে বাস্তবায়ন হয় সেজন্যে তাঁরা জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

Related posts