করোনা ভাইরাস : আতঙ্ক নয়, চাই সচেতনতা

ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া

পৃথিবী সুস্থ মানুষের কাছে মনোরম আর রুগ্ন মানুষের কাছে জীবাণুর আগার। অসংখ্য জীবাণু, দৃশ্যমান বা অদৃশ্য, ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। যখন অন্য প্রাণি কিংবা মানুষের দেহে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে তখন ওই জীবাণু সম্পর্কে জানতে পারে মানুষ। ২০১৯ এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এমন এক নূতন জীবাণুর দেখা মিলেছে যা চীনের হুপেই প্রদেশের রাজধানী উহানে আক্রমণ হেনেছে। এ নূতন জীবাণু হলো উহান করোনা ভাইরাস যা প্রথম জানা গেছে বলে নোভেল করোনা ভাইরাস নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। এর আগে অবশ্য করোনা ভাইরাসের একটা টাইপ মিডলইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোমের জন্যে সনাক্ত করা গেছে এবং সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম নামে আরও একটি করোনা ভাইরাসের টাইপ জানা গেছে। কিন্তু চীনের উহান করোনা ভাইরাস সম্পূর্ণ নূতন। এক ডিসেম্বর ২০১৯ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ২৫৯ জন উহান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং ১১৯৭৪ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।
উহান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধারণা করা হচ্ছে জীবন্ত সামুদ্রিক প্রাণির বাজার হতে সূচনা হয়েছে এবং তার সাথে জীবন্ত বাদুড় বা সাপের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মধ্যে।

করোনা ভাইরাস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
* শ্বাসকষ্ট
* জ্বর
* কাশি
* অগভীর ঘন ঘন শ্বাস
* নিউমোনিয়া
* কিডনিসহ অন্যান্য অর্গ্যান ফেইলিওর
* চূড়ান্ত অবস্থায় মৃত্যু

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
* নাকে-মুখে মাস্ক ব্যবহার করা
* যত্র তত্র কফ ও থুথু না ফেলা
* সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খাবার গ্রহণ
* বেশি ভিড়ে না যাওয়া
* উপরোক্ত লক্ষণবিশিষ্ট আক্রান্ত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা

করোনা ভাইরাসের ইতিবৃত্ত ‘করোনা’ শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে ‘মুকুট’। কেননা এ ভাইরাসটি দেখতে মুকুটাকৃতির।

করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দিকাশিতে আক্রান্ত ফ্লু রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনের উহানে সনাক্তকৃত ভাইরাসকে ‘নোভেল করোনাভাইরাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার জন্যে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো নির্দেশিত হয়নি। হয়তো অচিরেই আবিষ্কৃত হবে। এমনকি কোনো ভ্যাক্সিনও এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। শুধু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘরের বাইরে যেতে না করা হয়েছে যাতে অন্যদের মধ্যে এ জীবাণুটা ছড়িয়ে না পড়ে।

Related posts