হাজীগঞ্জে রিয়াদ হত্যা মামলার আসামী রাশেদ এখনো অধরা

হাজীগঞ্জের স্কুলছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলায় পলাতক আসামী রাশেদ এখনো অধরা। রাশেদের মা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়েছে। আর এই মামলার অন্য ৫ আসামী ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছে। মামলার প্রধান আসামী ফারুক (২৮) নিজে একাই রিয়াদকে হত্যা করেছে বলে আদালতে ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। প্রধান আসামীর স্বীকারোক্তির সত্যতা যাচাইসহ পলাতক আসামী রাশেদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে চার্জশীট দিতে কয়েকদিন লাগবে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে।

পলাতক রাশেদ রিয়াদ হত্যা মামলার ৩য় আসামী। সে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ গাইনবাড়ির নূরুল ইসলামের ছেলে। অপরদিকে জামিনপ্রাপ্তরা হলেন কাশেম, আল আমিন রাবি্ব, শাকিব, রাকিব ও রাকিব।

রিয়াদ হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি রাত ১০ থেকে ১৯ জানুয়ারি ভোরের মধ্যে কোন এক সময় হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াদ (১৬) নিজ বাড়ির পাশে খুন হয়। ১৯ জানুয়ারি ভোরবেলা বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পাশের ছোট্ট একটি টং ঘরে রিয়াদের ক্ষত-বিক্ষত দেহ গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয়রা। লাশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ, পিবিআই ও থানা পুলিশ। এতে ওই দিনই বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত সবাই রিয়াদের প্রতিবেশী কিংবা বন্ধু-বান্ধব। ১৯ জানুয়ারি রিয়াদের বাবা ফারুক হোসেন হাজীগঞ্জ থানায় মামলায় ৫ জনের নম এহাজারভুক্ত ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এদিকে একইদিন বিদ্যালয়ের পেছনের দেয়ালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে কয়েকজনকে আটকসহ আসামী করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ চাঁদপুর।

কিন্তু এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রিয়াদের বন্ধু কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের মালাচুয়া কালা পাটোয়ারী বাড়ির মৃত জিন্নত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (২৮) ও হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ গ্রামের গাইন বাড়ির নূরুল ইসলামের ছেলে রাশেদ। রিয়াদ হত্যাকা-ের মাত্র দুই দিনের মাথায় মামলার প্রধান আসামী ফারুককে গাজীপুর থেকে আটক করতে সমর্থ হয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু অধরা থেকে যায় নূরুল ইসলামের ছেলে রাশেদ।

এদিকে রিয়াদের বাবা ফারুক হোসেন জানান, ইতিমধ্যে মামলার জড়িত ৫ জনের জামিন হয়ে গেছে। মামলার আসামী রাশেদ এখনো আটক হয়নি। আমাদের ধারণা রাশেদ আটক হলে এ মামলার আরো কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এ মামলায় তদন্ত সংস্থাসহ পুলিশের ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফারুক হোসেন আরো বলেন, পলাতক রাশেদের মা তাদের বসতঘরে তালা দিয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ছেড়েছে। আমি শুধু আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই আর কিছুই না।

এ বিষয়ে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূর হোসেন মামুন মুঠোফোনে জানান, রিয়াদ হত্যা মামলাটি তদন্তে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু বিষয় এখনো তদন্ত বাকি রয়েছে। এ কাজগুলো শেষ হলেই চার্জশীট দিয়ে দেয়া হবে।

Related posts