চাঁদপুরে প্রতিদিন বাড়ছে মাস্কের দাম

করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আর এ ভাইরাস সবার কাছে এখন আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশে গত রোববার তিনজন রোগীও শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। চাঁদপুরের মতলবেও করোনা আক্রান্ত সন্দেহে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে ইত্যালিফেরত একজনকে। এ রোগের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় সচেতনতাই সংক্রামণ থেকে মুক্তি দিতে পারে। স্পর্শ, হাঁচি, কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে চিকিৎসকরা মাস্ক পরতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষ গণহারে মাস্ক ব্যবহার করছে। মাস্ক ব্যবহারে কোনো ক্ষতি নেই, বরং উপকারই হচ্ছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ সুযোগে মাস্ক ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম হাকিয়ে অনৈতিকভাবে মাস্ক বিক্রি করে চলেছেন। করোনা আতঙ্কে দেশের সাথে চাঁদপুরেও প্রতিদিন বাড়ছে মাস্ক বিক্রি ও এর দাম। ফলে কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ক্রেতারা। তাছাড়া মাস্কের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি এলাকার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মাস্ক বিক্রি করা এক হকারকে দেখা যায় ব্যাপক চাহিদা, বিক্রির চাপ ও মাস্কের দাম কষাকষিতে ক্রেতাদের সাথে হট্টগোলে জড়াতে। এছাড়াও চাঁদপুরের সকল বিপণীবিতানেই কয়েকগুণ বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে দেখা যায়। ক্রেতারা জানান, পনের দিন আগেও যে মাস্কের দাম ছিলো ১৫-২০ টাকা তা এখন ৭০-৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর ৭০-৮০ টাকায় যে মাস্ক কেনা যেতো তা এখন ১৮০-২০০ টাকায় কিনতে হয়। দাম কষাকষি করারও সুযোগ দেয়নি দোকানিরা।

তারা জানান, আমরা সচেতনতার জন্যে মাস্ক কিনতে এসেছি। এমন নিয়ন্ত্রণহীন দাম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ মাস্ক কিনতে পারবে না। এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে মাস্ক বিক্রি বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল মতলব উত্তর ও চাঁদপুর সদরে অভিযান চালানো হয়েছে। বেশি দামে মাস্ক বিক্রি হলে আমাদের অবহিত করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। ক্রেতারা চাইলে দোকানের নামসহ আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

Related posts