পৌরবাসীর কামনা একই দিন মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন

পৌরসভা নির্বাচনে হঠাৎ ছন্দপতন হলো। এ নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুজনিত কারণে এই ছন্দপতন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী মেয়র পদে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে। আর অন্য দুটি পদে অর্থাৎ সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে বর্তমান তারিখে অর্থাৎ ২৯ মার্চ। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ হেলাল উদ্দিন জানালেন এই বিধির বিষয়টি।

গতকাল স্থানীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পৌর নাগরিক এবং ভোটারদের মাঝে নানা গুঞ্জন ও প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ভালো-মন্দ দিক বিশ্লেষণ করতে থাকেন সচেতন ভোটার, নাগরিক ও প্রার্থীরা। সব কিছু বিবেচনায় এনে পৌরবাসীর দাবি হচ্ছে, একইদিন মেয়র এবং কাউন্সিলর নির্বাচন করে নেয়া। ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হলে সরকারের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটা দুরূহ হয়ে যাবে। আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, একটি পৌর নির্বাচন করতে সরকারের প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ হয়। এখন যদি কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ এবং মেয়র পদে ভোটগ্রহণ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হয়, তাহলে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হবে। অর্থাৎ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে যদি কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ যথারীতি ২৯ মার্চ হয়ে যায়, আর মেয়র পদে ভোট নতুন তারিখে হয়, তাহলে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় দুই বার হবে। যা হবে অনর্থক। তাই এই অর্থের অপচয় রোধের কথা বিবেচনায় এনে পুরো নির্বাচনের তফসিল নতুনভাবে করা হোক। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন তাদের অনেকের সাথে কথা বললে তারাও এই মতামতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সচেতন পৌরবাসী তুলে ধরেন। তা হচ্ছে, ভিন্ন ভিন্ন তারিখে যদি ভোটগ্রহণ হয়, তাহলে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ততা আসবে না। তার কারণ হলো, কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ যদি আগে হয়ে যায়, তাহলে মেয়র পদে ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হবে। এ ধরনের নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনের অধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় প্রত্যেকেই জয়ী হতে ভোটার আনার জন্যে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায়। কিন্তু কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ যদি আগে হয়ে যায়, তখন মেয়র পদে ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে শুধু মেয়র প্রার্থীর কর্মীদেরই আগ্রহ থাকবে। যেহেতু কাউন্সিলর পদে ভোট নেই, সে জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটারদের মাঝে ভোট প্রদানের আগ্রহ খুব একটা থাকবে না। এতে করে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুব কম দেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাবে না। আরো একটি বিষয় হচ্ছে, শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট হলে সেদিন মেয়র পদের প্রার্থীর কর্মী, সমর্থক এবং লোকজন কেন্দ্রে তেমন কোনো সক্রিয় ভূমিকায় থাকবে না। এতে করে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে পেশী শক্তির প্রভাব খাটিয়ে বিশৃঙ্খল ও গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাতে পুরো নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এসব গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে পৌরসভা নির্বাচন উদ্ভূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে কাউন্সিলর এবং মেয়র পদে ভোটগ্রহণ একই তারিখে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন সচেতন পৌরবাসী, ভোটার এবং প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনকে সরকারের আর্থিক বিষয় এবং গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে একইদিন মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ করার জন্যে ইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন পৌরসভার ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

Related posts