আমি শিক্ষামন্ত্রী হলে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামগুলোয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ১০০% নিশ্চিত করতাম

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া। পড়াশোনা করেছেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে। বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। একজন সফল বিতার্কিক হিসেবেই ছোঁয়ার বড় পরিচয়। জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। বর্তমানে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাবের কার্যনির্বাহী বিতর্ক উন্নয়ন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। সমপ্রতি তার মুখোমুখি হয় শিক্ষাঙ্গন। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো।

স্কুলের প্রথম দিনটি কেমন ছিলো?

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া : স্কুলের প্রথম দিনটি খুব বেশি স্মরণীয় আমার কাছে। আমার প্রথম স্কুল ছিলো চাঁদপুর খ্রিস্টিয়ান মিশন স্কুল। স্কুলে প্রথম দিনটি আমার আব্বু-আম্মু দুজনই আমার সঙ্গে ছিলেন। আমাকে আম্মু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দিয়ে স্কুলটির একপাশে অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর আমাদেরকে জাতীয় সংগীতের জন্যে এবং শরীরচর্চার জন্যে একে একে লাইনে দাঁড় করানো হয়, ব্যাপারটিতে আমি খুব বেশি আনন্দ পেয়েছিলাম। এরপর একে একে জাতীয় সংগীত, শপথবাক্য পাঠ। সবশেষে আমাদেরকে ক্লাসে বসানো হয়। এরপর আমাদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক প্রবেশ করেন। প্রথম শিক্ষক ছিলেন সুইটি ম্যাডাম।

মায়িসা, শৈলী, দোলা, ইতু, রিতু, দিয়া, ফারিবা, তুল্পা, তানহা, পাপুন, ফাহিম, ইজাজ, রাফি এরা আমার স্কুলজীবনের বন্ধু। কাজেই প্রথম স্কুলের দিনটি সত্যিই স্বপ্নের মতো ছিলো। এখনও ভেসে ওঠে চোখের সামনে এক পলকে।

আপনি স্কুলজীবন থেকে সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে সক্রিয় আছেন। ব্যক্তিজীবনে এর উপকার আছে কী? আপনার প্রাপ্তি সম্পর্কে বলুন।

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া : আমি বরাবরই সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলাম। স্কুল থেকেই গান শিখেছি চাঁদপুর সংগীত নিকেতনে। পাশাপাশি নৃত্য শিখেছি সপ্তরূপায়, চিত্রাঙ্কন শিখেছি চাঁদপুর চিত্রকলায় সাধন স্যারের কাছে। সবসময়ই স্কুলের প্রোগ্রামগুলোতে অংশগ্রহণ করেছি। এরপর যুক্ত হই বিতর্কের সাথে। বিতর্কে স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করে জেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। চাঁদপুরসহ পুরো বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করে হয়েছি দুদক বাংলাদেশ জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার রানার্সআপ। ২৪তম বাংলাদেশ টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছি আমার বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে, টেলিভিশন বিতর্ক, টকশো করেছি বেশ কবার।

ব্যক্তি হিসেবে সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাকে অনেক অনেক বেশি পরিপূর্ণ করতে সহায়তা করেছে। শিখিয়েছে শিষ্টাচার, নিয়মানুবর্তিতা। তবে সবকিছুকে একসাথে সামলে এগিয়ে নিতে আমার পরিবার, আম্মু-আব্বু অনেক সহায়তা করেছেন।

আপনার শিক্ষাজীবনের একটি আনন্দ এবং একটি বেদনার স্মৃতি বলুন।

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া : স্কুলজীবনের আনন্দ ছিলো স্কুলকে যতোবার বিজয়ের তকমা দিতে পেরেছিলাম ঠিক ততোবার। আমাদের প্রধান শিক্ষক ততোবারই আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন। খুব আনন্দের ছিলো দিনগুলো।

বেদনার স্মৃতি ছিলো স্কুল থেকে বিদায় নেয়ার দিনটি। স্কুলে মানুষের জীবনের একটি বড় সময় অতিবাহিত হয়, কাজেই একটা পরিবারের মতো সবাই হয়ে যায়। আর সেই পরিবার থেকে বিদায় নেয়ার দিনটি যে কতটা বেদনাদায়ক তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

আপনি শিক্ষামন্ত্রী হলে কোন্ দুটি বিশেষ পদক্ষেপ নিতেন?

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া : আমি শিক্ষামন্ত্রী হলে যে দুটি পদক্ষেপ নিতাম_

(১) কারিগরি শিক্ষার প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দিতাম, প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামগুলোয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতাম।

(২) বিশ্ব এগিয়ে চলছে তথ্যপ্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। পঞ্চম শিল্পবিপ্লব হতে চলেছে। অর্থাৎ ইন্টারনেট অব থিংঙ্রে উপর। তাই আমি প্রোগ্রামিং লেঙ্গুয়েজগুলোকে একদম পঞ্চম শ্রেণিতেই আওতাভুক্ত করতাম। যাতে শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

বর্তমান সময় ও সমাজ সম্পর্কে কিছু বলুন।

সুমাইয়া বিনতে জিলানী ছোঁয়া : বর্তমান সময় কথাটির সাথে সাথেই যান্ত্রিকতা ও যান্ত্রিক জীবন এ দুটি শব্দ মাথায় চলে আসে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সবাই ছুটছে নিজের অবস্থানটি তৈরি করতে। সমাজজীবনে বৈষম্যতো রয়েছেই। পুঁজিবাদী এক মনোভাব কোথাও না কোথাও মাঙ্রে সাম্যব্যবস্থার ধারণা থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। তবু সবকিছু ছাপিয়ে প্রত্যেকটি মানুষ ভালো থাকতে চায়। কিন্তু এ সমাজে একার ভালো থাকা যে সম্ভব নয়, তা আমরা প্রত্যেকেই বুঝি। সেজন্যে পরস্পরের দিকে পরস্পরের এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষ মানুষের জন্যে।

Related posts