প্রবাসী বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য আহবান জানানো হচেছ

করোনা ভাইরাসকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারী ঘোষণা করেছে। এই মহামারী আতঙ্কে এখন সারা বিশ্ব। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই যারা বিদেশ থেকে দেশে আসছেন তাদের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সকল বিদেশ ফেরতকে ‘হোম কোয়ারেনটাইনে’ থাকতে হবে। আর কাউকে যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়, তাহলে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে। এরপর বিশেষজ্ঞ টিম এসে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত দিবে এই রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। তবে বিদেশ ফেরত সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কেউ যদি এতে রাজি না হন, তাহলে তার উপর আইন প্রয়োগ করার বিধান রয়েছে। এসব বিষয়ের আলোকেই জেলা প্রশাসক খুব জোর দিয়ে বলেছেন, বিদেশ ফেরত লোকদের হোম কোয়ারেনটাইনে থাকতেই হবে। এটি কেউ না মানলে তার উপর আইন প্রয়োগ করা হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে চাঁদপুরকে রক্ষার জন্যে এভাবেই সরকারের নির্দেশনাসহ কঠোর ভূমিকার কথা জানান। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন বিষয় নিয়ে কথা হলেও এক পর্যায়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা উঠে। এরপর পুরো সময়টাতে করোনা ভাইরাস নিয়েই আলোচনা হয়। এর উপর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ। তিনি জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের কাছে তথ্য আছে, চাঁদপুর জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ১৬৭ জন। এই সংখ্যা এর আগে আরো বেশি থাকলেও তারা পনের দিন অতিবাহিত হওয়ায় কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্ত হয়ে গেছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, আর বেশি না, দুই সপ্তাহ আমাদের কষ্ট করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে লোক দেশে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। আর স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, চাঁদপুরে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায় নি। মতলব উত্তরে একজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিগেটিভ পাওয়া গেছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, কোনো কোনো জায়গায় বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা যাচ্ছে না। তারা কোনো কিছুই মানছে না। তখন জেলা প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কাউকে পাওয়া গেলে তার উপর আইন প্রয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট আইন রয়েছে। জেলা প্রশাসক এ সময় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিদেশ ফেরতদের উপজেলা ভিত্তিক তথ্য জানতে চান। ইউএনওগণ উপজেলা ভিত্তিক তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক তখন ইউএনওদেরকে এ বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেন এবং জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানান।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এনএসআইর যুগ্ম পরিচালক মোঃ আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাবিব উল করিম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

Related posts