ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মামলা

আবার মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মামলা। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে এভাবে একের এক মামলা দায়ের করে চলেছে। ইতিপূর্বে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগে ফরিদগঞ্জে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর নামে একের পর এক মামলা দায়ের করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ। সেই মামলাগুলোতে এখনো নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তারা। কিন্তু এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেরা মারামারি করে একের বিরুদ্ধে অপর পক্ষ মামলা দিচ্ছে। ফলে বিরোধী দল হয়ে মামলার আসামী হয়ে আদালতে ঘুরছে যেমনি বিএনপি, তেমনি নিজেদের অন্তঃকলহের জেরে এবার আদালতে ঘুরছে আওয়ামী লীগ।

সর্বশেষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের দিন ফরিদগঞ্জে সৃষ্ট আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার দুই মাস পর মামলা দায়ের হলো। গত ৯ মার্চ দায়ের হওয়া মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করে এই মামলা দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় উপজেলা যুবলীগের ব্যানারে একদল লোক হামলা চালায় বলে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে তাদের অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর হয়। ওই ঘটনায় রাতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৪৪জন নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাত আরো শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এর দুই মাস পর গত ৯ মার্চ উপজেলার দেইচর এলাকার জনৈক রাসেল আলম বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকারকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২৪জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার অপর আসামীরা হলেন : উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান রানা, বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এইচএম হারুন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ইরান, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব আলম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সুজন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক কাউছারুল আলম কামরুল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার বলেন, ঘটনার দিন আমরা আক্রান্ত হলাম। যারা হামলা করেছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল জিইয়ে রাখতে দুই মাস পর আমাদের বিরুদ্ধে মামলাটি গ্রহণ করলো। যা হাস্যকর।

Related posts