হঠাৎ অস্থির চালের বাজার

হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের চালের বাজার। বিশেষ কোনো কারণ বা অজুহাত ছাড়াই প্রকারভেদে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই/তিন দিন ধরে বাড়তি দাম রাখছেন আড়তদাররা। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। আর ক্রেতারা বলছেন, ৪/৫ দিন যাবৎ চালের দাম বাড়লেও এ নিয়ে কোনো তদারকি নেই। ২৮-৩০ টাকা কেজির গুটি চাল হঠাৎ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা হয়ে গেছে। ৩২-৩৩ টাকার পারিজা ৪০-৪২ টাকা, ৪৮ টাকার চিকন চাল জহুরা মিনিকেট এখন ৫৫ টাকা।

গতকাল ১৮ মার্চ বুধবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বস্তাপ্রতি চালের দর বেড়েছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দর। কেজিপ্রতি গুটি চালের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এসব বাজারে এক সপ্তাহ আগে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চাল বিক্রি হয়েছে ১২শ’ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকার মধ্যে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে মোটা-চিকন প্রকারভেদে ১৯শ’ টাকা থেকে ২৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাটে ধান নাই এ কারণে চালের দাম দিনাজপুর, নওগাঁর মোকামেই বেশি বলে জানান স্থানীয় আড়তদাররা।

একাধিক লোক অভিযোগ করেন চাঁদপুরে হাজার হাজার বস্তা চাল গুদামে এবং ট্রলারে থাকলেও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেটরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমুখী দর নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছে জেলা প্রশাসনের একাধিক টীম। গতকাল বিকেলে জেলা ম্যার্কেটিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ ও পালবাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একাধিক দোকানদারকে অর্থদ- দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

চালের বাজার মনিটরিং করতে আসা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন জানান, কোথাও যেনো করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিকভাবে কোনো দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি এবং মজুতদারি করা না হয়। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। আমাদের একাধিক টীম এ বিষয়ে মাঠে কাজ করছে। বুধবার আমরা চাল ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি, তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে।

এ সময় জেলা ম্যার্কেটিং অফিসার এনএম রেজাউল ইসলাম পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মোঃ মাসুদ ও সঙ্গীয় ফোর্স চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল পাটওয়ারীসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts