বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে চেয়ারম্যান কাশেম খানের ইঙ্গিতে হয়রানির অভিযোগ

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনৈক ছাত্তার খান এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগ সংগঠনের স্থানীয় ওয়ার্ড নেতা। গত ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের কর্মসূচির দাওয়াত দিয়ে যাবার পথে ছাত্তার খানকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে তিনি এলাকার নিরীহ বাদশা চৌকিদার, মালেক চৌকিদার, চাঁন্দু চৌকিদার, দুলাল খান, আমির খানসহ ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, আদৌ ওই দিন সকালে চরফতেজংপুর বাজারে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের কোনো কর্মসূচি ছিলো না। ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে থাকা ইউনিয়ন পরিষদে বিকেলে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে ছাত্তার খান মিথ্যা অভিযোগ করেন।

জানা যায়, আলুবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও চরফতেজংপুর স্কুল সংলগ্ন বাজারের একটা জায়গা নিয়ে রফিক ভূঁইয়া ও জনৈক রুহুল আমিন বেপারীর সাথে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পর্যায়ে রফিক ভূঁইয়াকে বিবাদী করে আদালতে মামলাও করা হয়। ১৭ মার্চ সকালে সেই জায়গার সীমানা দেখার জন্য আদালতের নির্দেশে একটি তদন্ত টীম সেখানে যায়। এ সময় জায়গার সীমানা দেখানোকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষ ছাত্তার খান ও বাদশা চকিদারের সঙ্গে তর্কবির্তক এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। মূলত এই ছিল প্রকৃত ঘটনা।

চরফতেজংপুর স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুকবুল মাস্টার ও গ্রামের মুরবি্ব খালেক শিকারী জানান, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেউ অবমাননা করলে আমরা বরদাশত করতাম না। জায়গা সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া করে কেন মুজিববর্ষের নাম ব্যবহার করা হলো আমরা এর বিচার চাই। বিশৃঙ্খলা করার জন্য এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ১১ নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাশেম খানের ইঙ্গিতে এসব হচ্ছে বলে জানান।

আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যারা আমার হয়ে নির্বাচনে কাজ করেছিল তারা চেয়ারম্যানের রোষানলের শিকার। দলের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার জায়গা না, অথচ চেয়ারম্যান আরেকজনের পক্ষ নিয়ে ঝামেলা করছে। এসব জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কাশেম খান জানান, মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে যাবার সময় দলের ওয়ার্ড নেতাকে গালমন্দ ও মারধর করা হয়েছে। ছাত্তার খান এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন। এটা আইন আদালত দেখবে।

Related posts