দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু আক্রান্ত মোট ৩৩

দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ছয়জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।

২৩ মার্চ সোমবার বিকেলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দেশে এ ভাইরাসে মারা গেছেন মোট তিনজন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আরও ছয়জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ তিনজন নারী তিনজন। একজনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, একজনের ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং একজন ষাটোর্ধ্ব ও একজন সত্তরোর্ধ্ব। এদের মধ্যে ট্রাভেল হিস্ট্রি ছিল বা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন দুজন, ভারত ও বাহরাইন থেকে। করোনা সংক্রমণ ছাড়া অন্য সংক্রমণ ছিল বা দীর্ঘমেয়াদী অন্য রোগ ছিল দুজনের মধ্যে।

‘মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬২০ জনের। সবমিলিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩। এই ৩৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন। এ মুহূর্তে আইসোলেশন রয়েছেন করোনা নিশ্চিত এবং যাদের মধ্যে করোনা উপস্থিতি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে অথবা যাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ রয়েছে, এরকম সংখ্যা ৫১ জন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টাইন রয়েছেন ৪৬ জন।’

তিনি বলেন, যে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ১৩ জনই বিদেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে ইতালির ছয়জন, যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন, ইউরোপের অন্যান্য দেশে থেকে দুইজন, বাহরাইন থেকে একজন এবং কুয়েত থেকে একজন এসেছেন। বাকি ২০ জনই হচ্ছেন ওই বিদেশ থেকে আসা ১৩ জনের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে সংক্রমিত। আক্রান্তদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী রোগ রয়েছে ১১ জনের। এদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অবস্থা স্থিতিশীল। একজনের কিডনির সমস্যা থাকায় তার ডায়ালাইসিসও চলছে।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ দুই-তৃতীয়াংশ, এক-তৃতীয়াংশ নারী। বয়সে দশ বছরের নিচে দু’জন, ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে নয়জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে নয়জন, ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ছয়জন। জেলাভিত্তিক আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার রয়েছেন ১৫ জন, মাদারীপুরের ১০ জন, নারায়ণগঞ্জের তিনজন, গাইবান্ধার দুইজন এবং কুমিল্লা, গাজীপুর ও চুয়াডাঙ্গার রয়েছেন একজন করে।

ডাঃ ফ্লোরা জানান, নতুন করে আক্রান্ত ছয়জনের একজন স্বাস্থ্যকর্মী। এই নিয়ে দেশে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নার্স দুজন, চিকিৎসক একজন। ব্রিফিংয়ের শুরুতে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয় তুলে ধরেন ডাঃ ফ্লোরা।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশি্বক মহামারি। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪ হাজার ৬৯৮ জন। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯৯ হাজার ১৩ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সবশেষ সরকারি হিসাবে, দেশে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। স্থগিত করা হয়েছে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত নানা কর্মসূচি। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।

Related posts