ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Share on facebook

ইলিশ শিকারে প্রস্তুত জেলেরা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নদীপাড়ের জেলেরা। নৌকা ও জাল নিয়ে তারা ১ মে মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরতে নদীতে নামবেন। জাটকা ইলিশ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনা নদীর মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং পদ্মার ২০ কিলোমিটার এলাকায় সব প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যার ৬০ কিলোমিটার পড়েছে চাঁদপুর এলাকায়। আর এ কারণে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার ৫১ হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা, বহরিয়াসহ কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামত করে ১ মে মধ্যরাত থেকে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা এলাকায় তোফাজ্জল নামের এক জেলে বলেন, দীর্ঘ দুই মাস পর নদীতে মাছ ধরতে নামব। এ মৌসুমে নদীতে অনেক অসাধু জেলে জাটকা নিধন করেছে। আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি শেষ। জেলেরা ইতোমধ্যে ঘাট এলাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছূর রহমান জানান, জাটকা সংরক্ষণের জন্যে সরকার দু’মাস চাঁদপুরসহ দেশের আরও কয়েক স্থানে অভয়াশ্রম কেন্দ্র ঘোষণা করে। এ সময় নদীতে যেকোনো ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ইলিশসহ অন্য মাছ ধরতে জেলেরা এখন প্রস্তুত। এবার পানির গুণাগুণ ও খাদ্যের উপাদান অনেকটাই ভালো রয়েছে। করোনার কারণে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি কিছুটা সীমাবদ্ধতায় ছিল। তবুও উৎপাদন ব্যাহত হবে না। আগামি ৫ বছরে ইলিশের উৎপাদন বাড়বেই।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি বলেন, সরকারঘোষিত সব নির্দেশনাই পালন করা হয়েছে। আশা করি ইলিশ উৎপাদন বাড়বে। আমাদের পক্ষ থেকে জেলেদের সব রকম সুযোগসুবিধা দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু অসাধু জেলে কর্তৃক নদীতে কিছু জাটকা নিধন হয়েছে।