ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের কোচ হিসেবে দৈনিক পৌনে ২ লাখ টাকা পারিশ্রমিক চান হেরাথ

তিনি এসেছিলেন চড়া মূল্যে। একদিন কোচিং করালে দিতে হবে দুইলাখ টাকার ওপর। তারপরও বিসিবি তা মেনে নিয়েছিল সেই শর্ত। বিপুল পরিমাণ অর্থে বছরে ১০০ দিনের চুক্তি করেছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। মানে বছরে ১০০ দিন কাজ করবেন। যার একদিনের পারিশ্রমিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ওপর।

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েও সাবেক কিউই অধিনায়ক কাম বাঁ-হাতি স্পিনারের সাথে চুক্তি করেছিল বিসিবি। বেশ কিছুদিন কাজও করেছেন বাংলাদেশের স্পিনারদের সাথে, কিন্তু করোনা এসে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির বাংলাদেশে আসা একরকম বন্ধই করে দিয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর আর ঢাকা আসেননি এ সাবেক ব্ল্যাক ক্যাপ্স অধিনায়ক।

এক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজে অল্প কিছুদিন কাজ করেছেন। তারপর আবার হারিয়ে গেছেন ভেট্টোরি। মাঝে তার বিকল্প হিসেবে স্থানীয় কোচ সোহেল ইসলামকে দিয়ে ঠেকা কাজ চালানো হয়েছে; কিন্তু এভাবে আর কতদিন? করোনা অব্যাহত থাকলে ভেট্টোরির আর বাংলাদেশে আসা হবে না- এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তাই বিসিবি স্পিন কোচের সন্ধানে।

এ কারণেই শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ, ভারতের সাইরাজ বাহুতুলে আর পাকিস্তানের সাঈদ আজমলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভেতরে ভেতরে শ্রীলঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের সাথে কথাবার্তা এগিয়েও গিয়েছিল খানিকটা।

তবে কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি এখনও। তবে কোন কোন প্রচার মাধ্যমে এমনও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, হেরাথ মোটামুটি নিশ্চিত। তার সাথে বিসিবির কথাবার্তা চূড়ান্ত এবং এ লঙ্কান বাঁহাতি স্পিনারই হতে যাচ্ছেন সাকিব, মিরাজ ও তাইজুলদের আগামী দিনের প্রশিক্ষক।

আসলে কী হেরাথই বাংলাদেশের ভবিষ্যত স্পিন কোচ? তা নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় জোর গুঞ্জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেরাথের বাংলাদেশের স্পিন কোচ হবার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তিনি যে পারিশ্রমিক দাবি করছেন, তা বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি।

বিসিবির উচ্চ পর্যায়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘ড্যানিয়েল ভেট্টোরির প্রায় সমান অর্থ চেয়েছেন হেরাথ এবং ভেটোরির মত তিনিও সারা বছর কাজ না করে বছরে ১০০ দিন স্পিনারদের সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দৈনিক ২ হাজার ডলার করে পারিশ্রমিক চেয়েছেন এ লঙ্কান।’

তার মানে বছরে তার পিছনে বিসিবিকে গুনতে হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকার বেশি।

খুব স্বাভাবিকভাবেই বিসিবি এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে হেরাথকে স্পিন কোচ করতে নারাজ। শেষ খবর, হেরাথ দৈনিক ২ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ১৫০০ ডলার করে দৈনিক চুক্তিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন; কিন্তু বিসিবি তাকে তা দিতেও রাজি নয়। জানা গেছে হাজার খানেক ডলার হলে হয়ত দুই পক্ষের মধ্যে রফা হতে পারে।

বিসিবি হয়ত ওই পরিমাণ অর্থে হেরাথকে ১২৫ দিনের জন্য পেতে চাইবে; কিন্তু তার বেশি হলে নয়। সেটাও কম নয়। বছরে এক কোটি টাকার বেশি। এখন হেরাথ রাজি হলেই কেবল চুক্তি হবে। না হয় এ লঙ্কান বাঁ-হাতি স্পিনারের বাংলাদেশের স্পিন কোচ হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

সর্বশেষ - খেলাধুলাজাতীয়

জনপ্রিয় - খেলাধুলাজাতীয়