ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Share on facebook

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি… Copy

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা, মানবতার মা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসসালামু আলাইকুম।

মানবতার মা, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমরা সবসময় আপনার দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনা করি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকাটাই যেখানে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় আপনি আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ আছেন এজন্যেই আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া। কিন্তু আমরা প্যানেল প্রত্যাশীরা ভালো নেই মা। আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কারণ প্রতিনিয়ত বেকারত্বের কষাঘাতে জর্জরিত হচ্ছি আমরা ৩০,০০৯ জন প্যানেল প্রত্যাশী।

মা আজ এমন এক সময়ে আপনার কাছে চিঠি লিখছি যখন আপনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা উন্নয়নশীল দেশ থেকে দিন দিন উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে শিক্ষা খাতসহ সকল খাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু হঠাৎ মহামারী করোনা ভাইরাসের জন্য সবকিছু যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমাদের দেশ নয় সারা বিশ্ব এখন মরনব্যাধি করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত। কিন্তু আমাদের কাছে এই মরনব্যাধির চেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাধি হলো বেকারত্ব। কারণ, বেকারত্ব নামক অভিশাপে আমরা প্রতিনিয়ত দংশিত হচ্ছি। এখন মনে হয় পড়াশোনা করে আমরা মস্ত বড় পাপ বা ভুল করেছি। কেননা, গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পরেও যখন আমরা একের পর এক ভাইবা দিয়েও কোনো চাকরি পাইনা, এদিকে চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সমাজের কিছু মানুষ আমাদেরকে নানান কথা শোনায়, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমরা বেকার। এমনকি আমরা পরিবারের মানুষদের কাছেও বোঝা হয়ে গেছি। কারণ, আমরা উচ্চশিক্ষিত হয়েও পরিবারের মানুষদের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারছি না। আর কতোদিন বুড়ো বাবা মার উপর ভরসা করে চলবো জানি না। বিশ্বাস করুন মা এইটা আমাদের মতো উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য বড়ই লজ্জার এবং ধিক্কারজনক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি অবগত আছেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ- ২০১৮ সালের পরীক্ষায় আমরা ২৪ লক্ষ প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগীতা করে মাত্র ৫৫,২৯৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছি। যেখানে শতকরা পাসের হার ছিল ২.৩%। সেশনজটসহ দীর্ঘ ৬ বছর রীট জটিলতার কারণে আমরা ৬ বছরে একটি মাত্র সার্কুলার পেয়েছি। আর ঠিক তখনি আমরা আমাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি। তাই আমরা নিঃসন্দেহে মেধাবী।

অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজার হাজার শূন্যপদ এবং তীব্র শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা উচ্চশিক্ষিত বেকাররা নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছি। যদিও ২০১৮ সালের সার্কুলারে ৮ নং ধারাতে উল্লেখ ছিল শূন্য পদের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এদিকে করোনার ভয়াবহ প্রভাবের ফলে শিক্ষার গুনগত মান দিন দিন ব্যাহত হচ্ছে। তাই করোনা পরবর্তী সময় শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রাথমিকে প্যানেল নিয়োগের বিকল্প নেই। কেননা, অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া অথবা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গতি তরান্বিত এবং অতি অল্প সময়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করতে প্যানেলে শিক্ষক নিয়োগ দানই হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

আমরা জানি, ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ২০১৩ সালে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এছাড়াও আপনি ২০১৪ সালে পুল প্যানেলের মাধ্যমে ৪৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। যা মুজিব কর্মেরই পুনরাবৃত্তি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন আপনার স্বপ্ন ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। আমাদের ও স্বপ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো। আমরা বিশ্বাস করি আপনি আপনার স্বপ্ন টাকে আমাদের ৩০,০০৯ জন প্যানেল প্রত্যাশীর মাধ্যমে পূরণ করবেন। আমরা আরও বিশ্বাস করি,আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে দেশের বেকারত্বের হারও কমে যাবে এবং সেই সাথে প্রাথমিকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে।

মানবতার মা আপনি অবগত আছেন, ১৮০ জন সংসদ সদস্য আমাদের প্যানেল দাবীকে সমর্থন করেছেন এবং তারা আমাদের কে ডিও লেটার ও প্রদান করেছেন। এছাড়াও সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ আমাদেরকে সমর্থন করেছেন।

আমরা ৩০,০০৯ জন উচ্চশিক্ষিত বেকার সন্তান আপনার কাছে আশাবাদী, আপনি আমাদের ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ -২০১৮ ‘ এ প্যানেল গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যত গড়ার কারিগর এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ করে দিবেন। মুজিব শতবর্ষে মুজিব কর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন।

৩০,০০৯ জন প্যানেল প্রত্যাশীদের পক্ষে-

রুনা আক্তার।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ -২০১৮, প্যানেল প্রত্যাশী,
প্রচার সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা।

সর্বশেষ - প্রথমপাতা

জনপ্রিয় - প্রথমপাতা