ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ইলিশের বাজারে আগুন!

দেশের অন্যতম বড় ইলিশের বাজার চাঁদপুর শহরের বড়স্টেশন মাছ-ঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের যে চাহিদা তার তুলনায় সরবরারহ কম। তাই ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের নাগালের বাইরে।

সম্প্রতি দুই কেজি ছয়শ’ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়ে এখানকার ইলিশ ব্যবসায়ী সোহেল গাজী বলেন, “ওই টাকা দিয়ে একটা আস্ত খাসি কেনা যেত।”

সরবরাহের অভাবে বেশি দামে তাদেরও মাছ কিনতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। কিন্তু নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারেও সরবরাহ নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে চাঁদপুর শহরের এ মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজার প্রায় ইলিশ শূন্য। বেশির ভাগ আড়তেই মাছ নেই।

বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার আনাগোনাও নেই। যারা ইলিশ কিনছেন, চড়া দামেই কিনে বাড়ি ফিরছেন।

এ বাজারে মাছ কিনতে আসা আনোয়ার ও জুয়েল নামের দুই ক্রেতা জানান, দাম বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে ইলিশ কেনা সম্ভব হয়নি। খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানান, অন্যান্য বছর এ সময়ে কয়েকশ মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও বর্তমানে মাত্র ৮ থেকে ১০ মণ মাছ আসছে।

এ বছরের বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়াই নদীতে মাছের আকালের কারণ বলছেন তিনি।

তাছাড়া মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের সময়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ নিধনও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন মাছ ব্যবসায়ীদের এ নেতা।

তবে এপ্রিল থেকে জুলাই এ চার মাস ইলিশের ‘ডাল সিজন’ বলে জানান চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউট মূখ্য বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান।

ড. আনিসুর বলেন, এ সময়ে সাধারণত নদীতে ইলিশ কম আসে, তাই ধরাও পড়ে কম। তাছাড়া এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় নদীতেও স্রোত কম হয়েছে, তাই সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশ উঠে আসেনি।

এ মৎস্য বিজ্ঞানীর আশা, বৃষ্টিপাত হলে আগামী জুলাই মাসের শেষ নাগাদ থেকেই নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। তখন দামও সাধারণ ক্রেতার নাগালে চলে আসবে।

তার মত মাছ ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, দুই/এক মাস পর নদীতে প্রচুর ইলিশ মিলবে।

সর্বশেষ - অর্থনীতিইলিশপ্রথমপাতা

জনপ্রিয় - অর্থনীতিইলিশপ্রথমপাতা