ঢাকা, বুধবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সৌখিনতা থেকে অবিশ্বাস্য অর্থ উপার্জন, “বনসাই” কি জানুন

১৫০ বছরের পুরোনো একটি বনসাই। এটি একটি বট জাতিয় উদ্ভিদ।

ডেস্ক রিপোর্টঃ 

বনসাই অত্যন্ত দামী তরুশিল্প। বনসাই করা সময় সাপেক্ষ এবং এক মহান শিল্পকর্ম। এর জন্য সারা বছর ধরে পরিচর্যা করতে হয়। অনেকের মতে, বনসাই হলো এমন এক মহান শিল্পকর্ম যার জন্য দরকার কবির মত কল্পনাশক্তি, হস্তশিল্পীর মত সুদক্ষ হাতের কাজ, চিত্রশিল্পীর মত দৃষ্টির গভীরতা এবং অভিজ্ঞ মালীর মত চাষাবাদ সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান। বনসাই এক অনন্য শিল্পকর্ম। তবে এ শিল্প সম্পুর্ণ জীবন্ত। অন্য প্রাণহীন শিল্পের সঙ্গে এটুকুই শুধু প্রভেদ।

বনসাইয়ের জন্য নির্বাচিত বৃক্ষঃ
বনসাই এর প্রাচীনত্ব ও স্বাভাবিকত্ব এই দুই বিশেষত্বের কথা বিশেষভাবে মনে রেখে দেশয গাছ নির্বাচন বিশেষজ্ঞের মতে, বট, তেঁতুল, নিম, শিমুল, বতাবীলেবু, বেগেনভিলিয়া, অশ্বথ, অর্জুন, রেনট্রি প্রভৃতি গাছপালা বনসাই এর উপযুক্ত। তবে বটবৃক্ষ সবচেয়ে উপযোগী। এর সুবিধা হলো টবে এর ঝুরি নামে। টবের ছোট্ট গাছে ঝুরি নামলে চমৎকার লাগে এবং একই সাথে গাছটির প্রাচীনত্ব তথা বয়সের সাক্ষ্যও ফুটে ওঠে।

বনসাইয়ের চারা সংগ্রহঃ
বনসাই তৈরী করার প্রাথমিক কাজ এর চারা সংগ্রহ। বীজ থেকে নার্সারীতে এর চারা উৎপাদন করা হয়না। এর জন্য প্রয়োজন অনুসন্ধানী মন। প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকা কষ্ট, সহিঞ্চু গাছ, যাদের যথেষ্ট বয়স হয়েছে অথচ তেমন বাড় হয়নি , এমন ধরনের গাছ বনসাই করার জন্য উপযুক্ত। এছাড়া গুটি কলম তৈরি করার পদ্বতিতে ও বয়স্ক গাছের সুপরিণত ডাল থেকে গুটিকলমের চারা তৈরি করে বনসাই করা যায়। গুটিকলমের জন্য উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। বন দপ্তরের নার্সারী থেকে বিতরন করা চারাগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত পরিণত, কম উচ্চতা বিশিষ্ট, মোটাগুড়ির বেশি শাখা প্রশাখাযুক্ত গাছকে বনসাইয়ের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

গাছ সংগ্রহকালীন পরিচর্যাঃ
গাছের চারপাশে কাটা নালাটি বালি এবং পাতাপচা সার দিয়ে ভরাট করার পর বৃষ্টি না হলে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন ও ১ মিঃ লিঃ ডাইমেক্রন গুলে চারাগাছের সর্বত্র ¯েপ্র করতে হবে। ফলে রোগবালাই দ্বারা স্পর্শকাতর চারা আক্রান্ত হতে পারে না।

বনসাই এর অন্যান্য খুঁটিনাটিঃ
যে সব গাছের পাতা ঝরে পড়ে, সে সব গাছের বনসাই হলে পাতা ঝরার মৌসুমে তরল সার দেওয়া উচিত নয়। তবে যে সব গাছের পাতা ঝরে যাবার পর ফুল ফোটে, পাতা ঝরে যাবার পরও সেসব গাছে তরল সার প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। যেমন- শিমুল কিংবা পলাশ গাছ।
পরবর্তী বছরগুলো থেকে প্রতি বছর টবের মাটি না পাল্টে দু বা তিন বছর পর পর পাল্টালেও চলবে। টবে পানি দেওয়া, শিকড় ছাঁটাই, ডাল বাঁকানো, তরল সার প্রয়োগ, রোগ ও কীটনাশকের মিশ্রণের ব্যবহার ইত্যাদি যাবতীয় কাজ সঠিক সময়ে করতে হবে।

সর্বশেষ - কৃষিপাঠকপ্রথমপাতা

জনপ্রিয় - কৃষিপাঠকপ্রথমপাতা