ঢাকা, শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান শামসুল আলম

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদ্য সাবেক হওয়া সদস্য (সিনিয়র সচিব) চাঁদপুর জেলার কৃতি সন্তান ড. শামসুল আলম। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ৩০ জুন তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামী রোববার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। ১৬ জুলাই শুক্রবার সকালে তিনি নিজেই ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক ড. শামসুল আলম যুক্তরাজ্য থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্বের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কাজ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম ইসলামাবাদ গ্রামে।

এ সময় তার অনুভূতি জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে জিইডিতে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেটি আমি সূচারু রূপে পালন করেছি। এখন যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে নতুন দায়িত্ব দিচ্ছেন, সেটিও যথাযথভাবে পালন করব ইনশাআল্লাহ। আমার প্রধান কাজ হবে— উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বৃদ্ধি করা।

শামসুল আলম পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ বছর অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা শেষে প্রেষণে ছুটিতে যান। পরিকল্পনা কমিশন সৃষ্টির পর প্রথম সদস্য। রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় ক্যাডার সার্ভিসের বাইরে প্রথম সিনিয়র সচিব। নিয়োগের ১২ বছরের মাথায় সরাসরি প্রতিমন্ত্রী। এমন নজির এই প্রথম।

একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. আলম অতি স্বজ্জন, বিনীয় এবং দেশ সেরা একজন অর্থনীতিবিদ। ড. শামসুল আলমের হাত ধরে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা। যেগুলো এখন চলমান। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে তার হাত ধরে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (২০০৯-১১) সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করে ‘দিনবদলের পদক্ষেপ’ ২০১১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে বাংলাদেশের প্রথম পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১) তৈরি করে জিইডি।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র, সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্র প্রণীত হয়েছে তার সময়ে। বর্তমানে ১০০ বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষের পথে। এগুলোর বাইরে তার দায়িত্ব পালনকালে এমডিজি অর্জন বিষয়ক ১৫টি গ্রন্থ, তার তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনায় ৬৩টি মূল্যায়ন প্রতিবেদন, অধ্যয়ন ও গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

ড. শামসুল আলম এ বছর সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিং কর্তৃক বাংলাদেশে এ সময়ে ইকোনমিস্ট অব ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির ১৬তম বার্ষিক সম্মেলনে এ বছর তাকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সোসাইটি তাকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক ২০১৮-এ ভূষিত করে। তার গবেষণাগ্রন্থ, পাঠ্যপুস্তকসহ অর্থনীতি বিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২টি। মন্ত্রিসভায়   প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।

সর্বশেষ - জাতীয়প্রথমপাতাসমসাময়িক

জনপ্রিয় - জাতীয়প্রথমপাতাসমসাময়িক